সম্পূর্ন জানতে দেখতে ক্লিক করুন
অন্যান্যইতিহাস

কালের সাক্ষী দিনাজপুরের কান্তজীউ মন্দির

কালের সাক্ষী দিনাজপুরের কান্তজীউ মন্দির

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

কাহারুলের দিনাজপুর জেলায় মুসলিম রাজমিস্ত্রিদের দ্বারা ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির নির্মাণের গল্পটি একটি কিংবদন্তী হিসাবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

সম্প্রতি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাবেক প্রফেসর ভিসি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.ডি. রুহুল আমিন এ তথ্য জানান। তিনি তার নিজস্ব গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বলেন, গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে-উপত্য দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় কান্তজীউ মন্দির নির্মাণের বাস্তবতা জনমতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

সময়ের সাথে সাথে অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক এই মন্দির নির্মাণের জন্য মুসলিম রাজমিস্ত্রিরা মিশরের দীর্ঘ নদী পার হয়ে শাহ রামনাথের অনুরোধে এদেশে আসেন।

এই মুসলিম রাজমিস্ত্রিরা তাদের নৈপুণ্য ব্যবহার করে এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি তৈরি করে নজির স্থাপন করেছেন। এর অন্যতম সাক্ষী কান্তজীউ মন্দিরের পাশে নয়াবাদ মসজিদ। মসজিদটির অবস্থান চকরামপুর মিস্ত্রিপাড়া। প্রধান রাজমিস্ত্রি নিয়াজ আহমেদ, ডাকনাম কালুর, যিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন, এবং তার বংশধরেরা এখনও এখানে বাস করে। এই অস্তিত্বই এই ঘটনার প্রকৃত সাক্ষী।

তার মতে, রাজা প্রাণনাথ 1722 সালে কান্তনগরে একটি মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে, স্থানীয় কারিগররা তার পছন্দ মতো দক্ষ নন। পোড়ামাটির কাজের জন্য অভিজ্ঞ কারিগর প্রয়োজন। মঙ্গোলীয় স্থাপত্যের প্রেক্ষিতে, তিনি সুদূর মিশর থেকে পাথরের রাজমিস্ত্রিদের সাথে নিয়ে এসেছিলেন। মন্দিরের নির্মাতারা সবাই মুসলমান।

তবে পরম যত্ন সহকারে কাজ করতে লাগলো মিস্ত্রিরা। কিন্তু তারা মুসলিম, দিনে ৫ বার নামাজ পড়তে হয়, বিশ্রামও দরকার। তাই সাহস করে একদিন তাদের সর্দার নেয়াজ, ওরফে কালু মহারাজার দরবারে গিয়ে মসজিদের জন্য জায়গা চেয়ে বসেন। মহারাজ প্রাণনাথ উদারচিত্তে ১ দশমিক ৫ বিঘা জমি দিয়ে দেন নয়াবাদ মসজিদ নির্মাণের জন্য। কান্তজীউ মন্দিরের জন্য যে ইট,পাথর ও সরঞ্জাম ছিলো, তা দিয়েই গড়ে উঠে নয়াবাদ মসজিদ।
দিনাজপুর ঢেপা নদীর স্রোতের দুপাশে এখনো বাংলার হাজার বছরের সেই ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বুকে ধারণ করে আছে কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ । এখন মন্দির দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম আসেন, মসজিদ দেখে যান শত শত হিন্দু। এলাকার মানুষগুলো এখনো বোঝেন না বিভেদের সমীকরণ, চেনেন না ধর্মের রাজনীতি। তাঁরা শুধু ভালোবাসতে জানেন, পাশে থাকতে জানেন।
তিনশো বছর পেরিয়ে গেছে, হয়তো আরও হাজার বছর পেরিয়ে যাবে, কিন্তু পৃথিবীর বুকে সাক্ষী হয়ে থেকে যাবে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ। ভাঙতে পারবে না কোন সাম্প্রদায়িক বন্ধন। সবাই একসাথে মিলেমিশে বসবাস করবে, এটাই বাঙালির ঐতিহ্য।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button